মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ফুলের রাজধানী যশোর জেলার গদখালী

যশোর শহর থেকে ২৫/৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে দুটি থানা ঝিকরগাছা ও শার্শা। এই দুই থানার ছয়টি ইউনিয়নের ৯০টি ঈসললপধয়পন ইী : জথঢ়ভমন, অঢ়ভমর থষন ইমহৎলগ্রামের ৪ হাজার বিঘা জমিতে ফুল চাষ করে স্খানীয় কৃষকরা। এসব ক্ষেত থেকে প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ফুল উৎপন্ন হয়।
পথের দু’পাশে দিগন্ত বিþতৃত রঙের সমাহার। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি আর সাদা রঙের এক বিস্তীর্ণ চাদর যেন বিছিয়ে রেখেছে চরাচরে। জমিতে ফুল চাষ করে এখানকার চাষীরা। বাড়ির চারধারে সৌখিন ফুলের বাগান নয়। মাঠের পর মাঠ জুড়ে ফুলের ক্ষেত। ফুলই এখানে ফসল। বাতাসে ফুলের মিষ্টি সৌরভ, মৌমাছির গুঞ্জন, প্রজাপতির ডানার জৌলুশ আর রঙের অফুরান শৌরভের সামনে দাঁড়িয়ে বিশ্বাসই হতে চায় না জায়গাটা আমাদের রক্ত, ক্লোদ আর কোলাহলে ভরা মাটির পৃথিবীরই একটা টুকরা।
যশোর-বেনাপোল রোড ছেড়ে ডানে, বায়ের গ্রামগুলোয় ঢুকে কিছুদুর এগিয়ে গেলেই দেখা মিলবে দিগন্ত জোড়া ফুলের ক্ষেত্র। যশোর-ঈসললপধয়পন দী - জথঢ়ভমন, অঢ়ভমক্ষ থষন ইমহৎলবেনাপোল সড়কের দু’ধারেও অল্প কিছু ক্ষেত্র চোখে পড়ে। রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডুওলাস, গোলাপ আর গাঁদা ফুল চাষ হয় এসব গ্রামে। গ্রামগুলো ঘুরে ঘুরে দেখা গেল কৃষকদের ব্যস্ততা। ফুল কেটে গরুর গাড়িতে করে বাজারে আনা হচ্ছে, সেখানে থেকে বান্ডিল করে চালান হয়ে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। পুরুষদের পাশে নারী ও শিশুরাও কাজ করছে ফুলের ক্ষেতে। কেউ ফুল কাটছে। কেউ নিড়ানি দিচ্ছে। কেউ ফুলের বীজ বুনছে। প্রতিবছর ৫ থেকে ৭ কোটি স্টিক ফুল উৎপাদন হচ্ছে এসব মাঠে।
ঝিকরগাছা থানার মাগুরা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রাম, গদখালি ইউপির হাজের আলী, কামারপাড়া, গদখালি, পটুয়াপাড়া, নবীনগর, বোধখানা, ফতেপুর, জাফরনগর, মেঠোপাড়া, পানিসরা, ইউপির টাওরা, পানিসরা, চাপাতলা, সৈয়দপাড়া, বৈচিতলা, কৃষäচন্দপুর। নরানঙ্গালী, কুলিয়া, গাবড়োপুর, নাভারন ইউপির হাড়িয়া,ঈসললপধয়পন দী : জথঢ়ভমন, অঢ়ভমর থষন ইমহৎল বাইশা, চাঁদপুর, আমিনি, শরীফপুর, নির্বাসখোলা ইউপির নিশ্চিতপুর, শির্য়দা, আরসিংড়ি, শার্শা থানার শার্শা ইউপির মাটিপুকুর, জিরেনগাছা, শ্যামলগাছি, ধলদারামপুরসহ আশপাশের এলাকা জুড়ে যে ফুল চাষ শুরু হয়েছে তার পরিধি দিন দিন বাড়ছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এসব গ্রামের কৃষকরা রজনীগন্ধা, গোলাপ, গ্লাডুওলাস ফুলের চাষ করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য লড়ে যাচ্ছেন।

কবে থেকে এ ফুল চাষ :
১৯৮৪ সালে প্রথম যশোরের ঝিকরগাছা থানার পানিসরা গ্রামের শের আলী ব্যবসায়ী ভিত্তিতে রজনীগন্ধা ফুলের চাষ শুরু করেন। এর আগে দেশে বৃহৎ পরিসরে রজনীগন্ধা চাষের কোন খবর পাওয়া যায়নি। তবে বাড়ির আঙিনায় শখের বশবর্তী হয়ে রজনীগন্ধা ফুলের চাষ অনেকেই করতেন। ঈসললপধয়পন ইী : জথঢ়ভমন, অঢ়ভমর থষন ইমহৎল
জানা যায়, শের আলীর বাবা আব্দুর রহমান সর্দার নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নার্সারি ‘সর্দার নার্সারি’-এর মালিক ছিলেন তিনি। আব্দুর রহমান দীর্ঘ ৩০ বছর নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন রকম ফলজ ও বনজ বৃক্ষের চারা উৎপাদন করে সুনাম অর্জন করেন। স্বাধীনতার পর শের আলীও নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। এই সুবাদে তিনি গাছের চারা সংগ্রহ করার জন্য বেশ কয়েকবার ভারতে গিয়েছেন। সেখানে তিনি চারা উৎপাদনের কলা-কৌশলও শিখেছেন। আশির দশকে ভারত থেকে দেশে চোরাই পথে রজনীগন্ধা ফুল আসা শুরু হয়। এমনকি গদখালি পানিসরা এলাকায় অনেকে ফুল চোরাচালানির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে। ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং চোরাচালান লাভজনক হওয়ায় শের আলী ভারতে গিয়ে রজনীগন্ধার চাষ শিখে আসেন। সঙ্গে করে নিয়ে আসেন রজনীগন্ধার বীজ। তারপর তিনি ১৯৮৪ সালে নিজ গ্রামে শুরু করেন রজনীগন্ধার চাষ। প্রথম বছরেই ঈসললপধয়পন দী : জথঢ়ভমন, অঢ়ভমর থষন ইমহৎলঅন্যান্য ফসলের তুলনায় ফুলচাষ লাভজনক তা শের আলী বুঝতে পারেন। এক বিঘা জমি থেকে তিনি তিন বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। এ বছরই শের আলীর অন্য তিন ভাই লেলিন, শামসুর রহমান, রুস্তম আলীও রজনীগন্ধার চাষ শুরু করে দেন। তিন বছরের মধ্যে পানিসরা ছাড়াও আশপাশের গ্রামের অনেক চাষী ফুল চাষে উঠেপড়ে লাগেন। ব্যপক ভিত্তিতে রজনীগন্ধা ফুল উৎপাদন হওয়ায় এর বাজার দর পড়ে যায়। লাভের অঙ্কও কমতে থাকে। এমন অবস্খায় অন্য ফুল চাষ করার জন্য ফের শের আলী এগিয়ে আসেন। ১৯৮৮ সালে তিনিই প্রথম লাল গ্ল্যাডুওলাস ফুলের চাষ শুরু করেন। এখন পানিসরার আশপাশের সাড়ে তিন থেকে ৪ বিঘা জমিতে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে ফুল চাষ হচ্ছে। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের রুটি-রুজি ফুল চাষের ওপর নির্ভর করছে।

ফুল বিদ্রোহ :
প্রথম অবস্খায় এখানে ফুলের কোন বাজার ছিল না। ঢাকার ব্যবসায়ীরা লোক মারফত সরাসরি এখান থেকে ফুল বাকিতে কিনে নিয়ে যেতো। কোন কোন ক্ষেত্রে কৃষকরাও ফুল ঢাকায় পৌছে দিতো। ফুল উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যের গন্ধ পেয়ে হাজির হলো দালাল ও ফড়িয়া মহাজনরা। প্রাথমিক পর্যায়ে ফুলের মূল্য ঠিকমতো পরিশোধ করলেও এক পর্যায়ে মহাজনরা টাকা প্রদানে গড়িমসি শুরু করে। বাকির অঙ্ক বাড়তে থাকে। এমনকি এক পর্যায়ে মহাজনরা টাকা প্রদানে অস্বীকার করে। জানা যায়, প্রায় কোটি টাকা মহাজনদের কাছে আটকে যায়। এ রকম এক পরিস্খিতিতে ফুল চাষীরা বিদ্রোহ করে। ফুলের ন্যয্যমূল্য পাওয়ার জন্য, ফুল বিক্রির নগদ টাকা পাওয়ার জন্য এলাকার কয়েক হাজার ফুল চাষী একাট্টা হয়ে ফুল বিদ্রেহে অংশ নেয়। তারা ঘোষনা কোন ফুলই আর বাকিতে বিক্রি হবে না। তাছাড়া ফুলের ন্যায্য দাম দিতে হবে। আর তা না হলে ফুল কেটে ফেলে দেওয়া হবে।
১৯৯৫ সাল। স্খানীয় ফুল চাষীদের নিয়ে গড়ে উঠলো ফুল চাষী কল্যাণ সমিতি। এই সমিতির নেতৃত্বে শুরু হয় ফুল বিদ্রোহ। চাষীরা সব ক্ষেতের ফুল গদখালি বাজারে জড়ো করে। এখান থেকে ন্যায্য দামে নগদ মুল্যে ফুল বিক্রির বন্দোবস্ত করা হয়। আর যে ফুলগুলো নগদে বিক্রি করা গেল না, সেগুলো যশোর-বেনাপোল সড়কের গদখালি বাজারের উত্তর দিকে এক বিরাট খালে ফেলে দেওয়া শুরু হলো। মহাজনরা নগদ দামে সামান্য ফুলই কিনতো। ফলে প্রতিদিন ৫০ হাজার থেকে ১লাখ অবিক্রীত ফুল ফেলে দেওয়া হতে লাগলো ঐ খালে। বিপুল পরিমান বিসর্জিত ফুলের স্তপ জমে জমে এক পর্যায়ে বিশাল ঐ খাল ভরাট হয়ে যায়। দীর্ঘ এক বছর এভাবে ফুল বিদ্রোহ চলেছিল।
ফুল চাষী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শের আলী, বর্তমানে সভাপতি শের আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন ফুল চাষী জানান, এভাবে ফুল বিদ্রোহের মাধ্যমে মহাজনদের বাকিতে কেনার অভ্যাস কিছুটা বদলানো গেলেও এখনো প্রায় ১ কোটি টাকা উদ্ধার করা যায়নি।

ফুলের বাজার :
ফুলের বিদ্রোহের পর ১৯৯৬ সালে শুরু থেকে ঝিকরগাছা থানার গদখালি রহিম মার্কেট পাশে প্রতিদিন ফুলের বাজার বসে। সকাল ৭টা ঈসললপধয় দী - জথঢ়ভমন, অঢ়ভমক্ষ থষন ইমহৎলথেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ বাজারে ফুল কেনাবেচা হয়। চাষীরা তাদের ক্ষেতের উৎপাদিত গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডুওলাস ফুলসহ ঝাউপাতা নিয়ে আসে। ফড়িয়া, পাইকাররা চাষীদের কাছ থেকে নগদ মূল্যে (কোন কোন ক্ষেত্রে বাকিতে) কিনে নিয়ে যায়। পাইকাররা এ ফুল ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, বরিশাল, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ছাড়াও দেশের নানা স্খানে চালান করে। ফুল চাষী ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি এ বাজারের দেখভাল করে। ফুল চাষী ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণের চেষ্টা চালায়।
বাজার ঘুরে ঘুরে চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখনো ফুলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে আগের মতো শুধুই বাকিতে বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয় না। প্রতিদিন বাজারে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার ফুল কেনাবেচা হয়।
জানা যায় ৬০/৭০ জন পাইকার, ফড়িয়া ফুলের এ বাজার নিয়ন্ত্রন করে। তারা ইচ্ছামতো ফুলের দাম নির্ধারণ করে। ফলে চাষী কখনোই ফুলের কাঙ্খিত মূল্য পায় না। ১০০ ফুল বিক্রির জন্য ২ টাকা খাজনা দিতে হয়।
গত ১১ই নভেম্বর থেকে ১৩ই নভেম্বর পর্যন্ত তিনদিন এই বাজারের গ্ল্যাডুওলাস ১০০ স্টিক বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা ও ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। ঐ তিনদিনে ডবল রজনীগন্ধা (ভুট্টা) বিক্রী হয়েছে প্রতি ১০০ স্টিক ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও ১০০ থেকে ১২০ টাকা। রজনীগন্ধা সিঙ্গেল প্রতি ১০০ স্টিক বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকায়। গোলাপ বিক্রি হয়েছে প্রতি ১০০টি ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়। চাষীরা এমন দামে ফুল বিক্রী করলেও এই সময়ে জেলা শহরের ফুলের স্টলগুলোতে ফুল বিক্রি হয়েছে গদখালি বাজারের চেয়ে কয়েকগুন বেশি দামে। বর্তমানে গদখালি বাজারে যে দামে ফুল বিক্রি হচ্ছে তা ফুল সরবরাহ, চাহিদা এবং পাইকারদের ইচ্ছার ওপর ওঠানামা করে। যেমন পৌষ-মাঘ মাসে গ্ল্যাডুওলাস ফুল বেশি উৎপাদন হয়, এ সময়ে প্রতি ১০০ টি স্টিক বিক্রি হয় ১০ থেকে ২০ টাকায়। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে রজনীগন্ধা বেশী উৎপাদন হয়। তখন এ ফুল বিক্রি হয় ১০০ স্টিক ৫০ থেকে ১০০ টাকায়। ফুলের এই মূল্য নিয়ে কথা বললে ফুলচাষী নারানঙ্গালীর আব্দুল মজিদ, আরসিংড়ির নজরুল ইসলাম, পটুয়াপাড়া জুয়েল জানায়, গ্ল্যাডুওলাস প্রতিটি স্টিক উৎপাদন করতে খরচ হয় ৭০ পয়সা। বর্তমানে ৫০/৬০ পয়সায় বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হয়। কিন্তু আমাদের করার কিছুই নেই। ফুল বিক্রি না হলে পচে যাবে।

পাইকারীদের বক্তব্য :
সিদ্দিক আলী ও শাহাজাহান। এরা স্খানীয় বাজার থেকে ফুল কিনে বাইরে চালান করেন। ফুলের মূল্য সম্পর্কে কথা বললে তারা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ’দুজন পাইকার জানান, পরিবহন খরচ বেশী। ৩০ থেকে ৪০ কেজি এক বান্ডিল ফুল পরিবহনের জন্য বাসে ঢাকা পর্যন্ত ভাড়া নেয় ৬০ টাকা। গাবতলীর কুলি, গাবতলীর গেটে জরবদস্তি বান্ডিল প্রতি ১৫ টাকা আর নামানের কুলি বাবদ মোট খরচ হয় ১১৫ টাকা। তার পরও সমস্যা রয়েছে। ঢাকার শাহাবাগের ফুলের বাজার আমরা নিজেরা ফুল বিক্রি করতে পারি না। আড়ৎদারদের মাধ্যমে ফুল বিক্রি করতে হয়। কিন্ত তারা অনেক বেশী কমিশন কেটে রাখে। কোন কোন ক্ষেত্রে এ কমিশনের পরিমান ৪০ শাতাংশ। মূলত তারা তাদের ইচ্ছা মতো দাম প্রদান করে। পাইকাররা আরো জানায়, কাঁচা মাল অনেক সময় নষ্টও হয়ে যায়। সে করণে আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেয় ফুলের ন্যায্য দাম চাষিদের দিতে পারি না।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় ফুলচাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: আব্দুর রহিম ও সেক্রেটারী মো: সিদ্দিক হোসেনের সঙ্গে। চাষীরা ন্যায্য দাম পায় না এ কথা স্বীকার করে সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, আগে চাষীরা টাকাই পেতো না। বর্তমান বাজার ব্যবস্খায় কিছুটা দাম পাচ্ছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে ঢাকার বাজারের ওপর। ঢাকার দাম পেলে এখানকার চাষীরাও দাম পাবে। ফুল নষ্ট হয়ে যাবে বলে চাষীরা কম দামে ফুল বিক্রি করতে বাধ্য হয়। তবে স্খানীয়ভাবে ফুল সংরক্ষণ করার ব্যবস্খা থাকলে অবস্খার পরিবর্তন হতো।

সমস্যার উৎসে :
ফুলচাষী ও ফুল উৎপাদনকারী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফুলচাষীদের বড় সমস্যা হচ্ছে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া। এ বিষয়ে ফুলচাষী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম, চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, যদি ফুলের এমন একটি পৃথক বাজার সৃষ্টি করা যায়, যে বাজারে চাষীরা ফুল বিক্রি করতে পারে তা হলে চাষীরা ন্যয্য দাম পায় পাবে। পাশাপাশি পিক সিজনে যখন বেশী ফুল উৎপাদন হয় তখন ফুল সংরক্ষণ করা হলে ফুলের দাম বাড়তে পারে। এছাড়া সরকারী উদ্যোগে ফুল রপ্তানি করা হলেও চাষীরা ন্যয্য দাম পাবে বলে তারা জানান।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, গ্ল্যাডুওলাস ফুলের বীজ সংরক্ষণ করা সবচেয়ে বড় অসুবিধা। এক সিজনের বীজ আর এক সিজনে লাগানোর জন্য হিমাগারে রাখা সম্ভব হয় না। কেননা বীজ শুধু আলু রাখার সময়ই হিমাগারে রাখা সম্ভব। তাদের মতে, ফুলচাষীদের বাঁচানের লক্ষ্যে সরকারের জরুরী ভিত্তিতে ঢাকায় একটি ফুলের নিলাম বাজার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এ বাজারে যার ফুল সে বিক্রি করতে পারলে চাষীরা ন্যায্য দাম পাবে বলে তারা জানান।
ফুলের বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আরো বলেছেন, বর্ষা ও শীত মৌসুমে এলাকায় ফুল বেশী উৎপাদিত হওয়ায় ফুল নষ্ট হয় কিংবা নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এ সময় ফুল বিদেশে রপ্তানি করার ব্যবস্খা করা হলে চাষীরা প্রাণে বাঁচবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। তারা এও বলেন, ভারত প্রতি বছর আড়াই হাজার কোটি রুপি মূল্যের ফুল বিদেশে রপ্তানি করে। বাংলাদেশ থেকেও ফুল রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। ফুলচাষীরা অন্যান্য কৃষিপণ্যের মতো ফুল সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় হিমাগার স্খাপনের দাবি জানান।
ফুলচাষীদের এই সমস্যা ও সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা হয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের যশোরের উপ পরিচালক মঞ্জুর-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে। কৃষকরা ফুলের ন্যায্য দাম পায় না এ কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা কারিগরি প্রশিক্ষণ ছাড়া অন্য কিছু করতে পারি না। কেউ সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে এলে কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়। ফুল রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।

যে ফুল মöান হয়নি :
পাহাড়প্রমাণ সমস্যা নিয়েও যশোরের ঝিকরগাছা ও শার্শা থানার কৃষকরা আজো ফুলের চাষ করছে। রাজধানী ঢাকায় শাহাবাগ মোড়ে প্রতিদিন ভোরে ট্রাক থেকে যে ফুলের বন্ডিল নামছে, সেগুলোর সৌরভের সঙ্গে মিশে আছে এই ফুলচাষীদের দীর্ঘশ্বাস। প্রতিটি পাপড়ির গায়ে লেগে থাকে শিশির কণার সঙ্গে মিশে আছে ফুলচাষীদের স্বেদবিন্দু। নিজেদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য তার হয়তো পুরোপুরি পান না। কিন্তু যে ফুল তারা ফোটান তাতে কোন অসম্পূর্ণতা নেই। তাদের যত্নে বেড়ে ওঠা গোলাপ গাছে গোলাপ ফুল তার পরিপূর্ণ রক্তিমাভা নিয়েই ফোটে।